দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দেশটির ওপর আবারও হামলা চালাতে হতে পারে। তিনি জানান, হামলার নির্দেশ দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে তিনি সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিলেন।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন। এর একদিন আগে তিনি জানিয়েছিলেন, তেহরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের নেতারা এখন একটি চুক্তির জন্য অনুরোধ করছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন হামলা হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘হয়তো দুই-তিন দিনের মধ্যে, শুক্রবার, শনিবার বা রোববার। না হলে আগামী সপ্তাহের শুরুতে। সময় খুব সীমিত। কারণ আমরা ইরানকে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দিতে পারি না।’
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, ট্রাম্প বুঝতে পেরেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে ‘কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া’ আসবে বলেই হামলা স্থগিত করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ, ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত অর্থ ছাড় এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এসব শর্ত আগের প্রস্তাবের সঙ্গে প্রায় একই রকম বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। গত সপ্তাহে ট্রাম্প সেই প্রস্তাবকে ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
রয়টার্স জানায়, নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ট্রাম্পের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ওয়াশিংটন এমন একটি সমঝোতায় সন্তুষ্ট হবে, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে। তিনি বলেন, ‘যদি বোমা না ফেলেই সমাধান করা যায়, তাহলে আমি খুব খুশি হব।’
পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসলামাবাদ উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে এবং ইরানের নতুন প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে সূত্রটির ভাষ্য, ‘দুই পক্ষই বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছে। সময় খুব কম।’
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে হাজারো মানুষ নিহত হয়। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।
ইসরায়েলের হামলায় লেবাননেও হাজারো মানুষ নিহত ও বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পাল্টা ইরানি হামলায় ইসরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতেই এ অভিযান শুরু করা হয়েছিল।
তবে এখনো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি এবং দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে রয়েছে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি।
এদিকে মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসন একটি ইরানি বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এমএস/